আমরা সবাই অপেক্ষা করছি, কবে খলিফাতুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এর আবির্ভাব হবে? কারন তার আবির্ভাব মানেই মুসলিমদের সুদিন ফিরে আসা, তার আবির্ভাবের পরেই মুসলিমদের কথায় উঠবে বসবে পৃথিবীর বড় বড় মোড়লরা, মুসলিমরা ফিরে পাবে হারানো রাজ্যক্ষমতা। আমরা মুসলিমরা ধরেই নিয়েছি আমরা ফেসবুকে অথবা, টেলিভিশনের পর্দায় আর কয়েক বছর পরেই দেখতে পাব মক্কায় হজ্জের সময় খলিফা মাহদীর উত্থান হয়েছে, তখন আমরা টেলিভিশনের সামনে বসে সাকিব আল হাসানের ছক্কা মারার পর যেভাবে ইয়াহুউউ বলে জয়ধ্বনি দেই, ঠিক তেমনি করে মাহদীর উত্থানের পর জয়ধ্বনি দিব এবং সাথে সাথে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করব। যদি আপনি এরকমই মনে করে থাকেন, তাহলে একটু নড়েচড়ে বসুন, করন আজকে আপনার জন্যই কিছু তিক্ত কথা শেয়ার করব, এগুলো হজম করার জন্য প্রস্তুত হন।
ইমাম মাহদী সে তো একজন ভয়ংকর জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও টেরোরিস্ট লিডার, আরে এটা তো দ্বিতীয় লাদেন??? তার অনুসারীরা হজ্জের সময় নিরপরাধ হাজীদের হত্যা করে পুরো মিনার প্রান্তরে রক্তের বন্যা বয়ে দিয়েছে? তারপর নিজেদের জীবন বাঁচাতে পবিত্র মসজিদুল হারামে আশ্রয় নিয়েছে! তারা মক্কার গভর্নরকে আত্নঘাতী হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে? ইসলাম কখনো আত্নঘাতী হামলা সমর্থন করে না? এটা ইমাম মাহদী না, তিনি তো একজন মৌলবাদী জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও টেরোরিস্ট? তিনি কি করে মাহদী হন? মাহদী তো আল্লাহর হেদায়েত প্রাপ্ত ব্যক্তি, মাহদী কখনো এরকম সন্ত্রাসী কাজ করতে পারে না। আমি কি এরকম একজনের জন্য অপেক্ষায় আছি নাকি? আমি একজন শান্তি প্রিয় মুসলিম হয়ে কি করে জঙ্গি, সন্ত্রাসী নেতার জন্য অপেক্ষায় থাকব? আমি তো একজন হেদায়েত প্রাপ্ত শান্তি প্রিয় মাহদীর অপেক্ষায় আছি!!!!!!!
যারা মক্কায় খলিফা মাহদীকে নিজেদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করবে, তারা তো গত দুই যুগ ধরে ইরাক ও সিরিয়াতে নিরপরাধ শিয়া মুসলমানদের (?) হত্যা করতে করতে পুরো ইরাক ও সিরিয়াকে কবরস্থান বানিয়ে ফেলেছে, ইসলামে মানুষ হত্যা জায়েজ নেই, তারা ইজরাইলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে! তারা ইজরাইলের সিক্রেট ফোর্স? এই জঙ্গিরাই মুসলিমদের মান সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে, তাদের কারনে আমরা ইউরোপ ও আমেরিকার ভাইদের সাথে কথা বলতে লজ্জা পাই, ছি ছি ছি, তারাই নাকি আবার আবদাল, আসহাব !!!!! এটা কখনো হতেই পারে না, আরে এই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও টেরোরিস্ট গুলো আমাদের সহজ সরল মুসলিমদের বোকা বানানোর উদ্দেশ্যে তাদের একজন লিডার নিয়োগ দেয়ার জন্য কাবা শরীফকে বেছে নিয়েছে, কাবা শরীফের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। সাবধান আপনারা এসব জঙ্গিদের খপ্পরে পরবেন না, তারা মুসলিম নামের কলঙ্ক, তারা মানবতার দুশমন, এগুলো কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না!!! ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, আর এই সন্ত্রাসী গুলো ইসলামের নামে অশান্তি সৃষ্টি করছে!!!!
যে গ্রুপ থেকে মাহদীর উত্থান হবে, এই লোকগুলো আফগানিস্তানে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করছে, তারা মুসলিমদের কাফের ফতোয়া দিয়ে হত্যা করে? তারপর আমাদের মুসলিমদের গর্ব ও অহংকার (?) ইরানকে আমরিকা ও সৌদির ইন্দনে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে? তাদেরকে ইজরাইলের গোয়েন্দা মোসাদ নিশ্চয়ই প্রশিক্ষণ দিয়েছে!!! ইজরাইল কৌশলে এসব জঙ্গিদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে ইরানকে গায়েল করার জন্য!!! আর তাদের দ্বারা ব্রেন ওয়াশ হয়ে কিছু কিছু উগ্র মৌলবাদী ছেলেমেয়ে গুলো তাদের সাথে যোগ দিয়েছে? আবার তারাই নাকি দাবি করে তারা খোরাসানের কালো পতাকাবাহী দল!!! এটা কখনোই হতে পারে না, এগুলো ইজরাঈলের পা চাটা কুত্তা, মোসাদের চর, এদেরকে বয়কট করা আমাদের ইমানী দায়িত্ব!!!!!!!!
সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে কি যেন একটা জঙ্গি নেতা বের হয়েছে, ওওওও মনে পরেছে , হারস হাররাস। এই লোকটি কোন মাদ্রাসায় জীবনে লেখাপড়া করেনি? ভালোমতো আরবিতে এবারত পরতে পারে না, নিশ্চয়ই ইজরাঈল প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরানকে ধ্বংস করার জন্য? তার সাথে শুয়াইব নামে আরেকটা টেরোরিস্ট যোগ দিয়েছে? সমস্যা নেই তারা মাত্র ৪/৫ হাজার লোক? এদেরকে শক্তিশালী আয়াতুল্লাহ খোমেনীর বাহিনী IRGC এক নিমিষেই কিমা বানিয়ে ফেলবে!!! আমরা কোটি কোটি মুসলমান কি কিছুই বুঝি না? এরাই সব বুঝে? হায়, এই জঙ্গি গুলো যদি হেকমত খাটিয়ে কাজ করত, তাহলে ইরান কবেই পারমাণবিক বোমা মেরে তেলআবিবকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারত, এই জঙ্গি গুলোই সব নষ্টের মূল!!!! সাবধান, আপনারা কেউ এদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না? এদের কাজই হল সহজ সরল মুসলিম যুবকদের ব্রেন ওয়াশ করে আত্নঘাতী হামলা চালাতে বাধ্য করা!!!!!!!
সমস্যা নেই এসব গুটি কয়েক সন্ত্রাসীদের নিঃশেষ করে দিতে আমাদের প্রানের স্পন্দন লৌহ মানব সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আছে না??? নিশ্চয়ই তিনি এসব জঙ্গিদের থেকে কাবা শরীফকে উদ্ধার করবেন। কারণ তার বাপ দাদারা হাফিজ আল আসাদ ও বাশার আল আসাদ গত দুই যুগ ধরে এসব জঙ্গিদের কচুকাটা করে আসছেন? জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা তাদের ঐতিহ্য? ব্রেকিং নিউজঃ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট মক্কায় অবরুদ্ধ জঙ্গিদের কচুকাটা করতে কয়েক হাজার সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন??? জঙ্গিরা এবার বুঝবে ঠেলা!!! দুদিন পরের খবরঃ ব্রেকিং নিউজঃ সিরিয়ার সৈন্যরা হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে??? তাদেরকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না?? সর্বশেষ তাদেরকে মক্কা ও মদীনার মাঝামাঝি মরুভূমিতে ছাউনী ফেলতে দেখা গেছে, কিন্তু এখন তাদেরকে কথাও দেখা যাচ্ছে না। এদিকে গতকাল রাতে এই এলাকায় প্রবল ভূমিকম্প হয়েছিল, তাহলে তারা কি ভূমিকম্পে মাটির নিচে চাপা পরেছে? তাহলে কি এটাই হাদিসে বর্ণিত বাইদার প্রান্তের ভূমিধ্বস????
তাহলে কি এই জঙ্গি সন্ত্রাসী গুলোর কথাই এতদিন মোল্লারা বলে আসছে, ফেসবুকে তাদের নিয়েই এতদিন লেখালেখি করা হয়েছে??? তাহলে কী এতদিন যাদেরকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মধ্যযুগীয় বর্বর ও টেরোরিস্ট বলে নাক সিঁটকাতাম, যাদের কথা শোনা মাত্রই মেজাজ বিগড়ে যেতো, এখনতো দেখছি তারাই সঠিক পথে ছিল, তাহলে কি আমিই এতদিন ছিলাম ভূলের সাগরে??? এদিকে দেখতে দেখতে প্রায় ১২ হাজার জঙ্গি ও সন্ত্রাসী মক্কায় একত্রিত হয়েছে, এখন তাদেরকে পরাজিত করার মত কেউ নেই, এছাড়াও নতুন নিউজ আসছে, তারা নাকি দলবল নিয়ে ফিলিস্তিনের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। তাহলে এখন আমার কি করা উচিত???? আমি কি সালমান ফারসীর মত শতশত মাইল পাড়ি দিয়ে ফিলিস্তিনের দিকে যাব, নাকি ঘরে বসেই আল্লাহ বিল্লাহ করব??? না এটলিস্ট আবু সুফিয়ানের মতো গিয়ে তাদের সাথে যোগ দেই??? এদিকে অনেক দিন ধরেই সৌদি আরবে গৃহযুদ্ধের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, ইশশশশশ যদি আর দুই তিন বছর আগেই সৌদিতে চলে যেতাম, সিরিয়ায় চলে যেতাম অথবা ইরাকে চলে যেতাম, তাহলে আজকে আমিও ১২ হাজার সৈন্যের একজন হতে পারতাম!!!! আমিও আবদাল দের অন্তর্ভূক্ত হতে পারতাম!!!!
[ বিঃদ্রঃ এটি নোয়াখালীর জৈনিক ইসলামী গবেষক ও পন্ডিত ব্যক্তি জসিম ওরফে কাশেমের চিন্তা ধারা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, সুতরাং অপর কোন ব্যক্তির সাথে একই চিত্র মিলে গেলে কতৃপক্ষ দায়ী নয় ]